ছেলেটি এটিএম বুথের সিকিউরিটির গার্ড হিসেবে এটিএম বুথে ডিউটি করছে। বুথের ভিতরে প্রবেশ করতেই আন্তরিকতার সাথে শুদ্ধভাবে সালাম দিলো। আমিও সালামের উত্তর দিলাম। এটিএম বুথের ভিতরে থেকে আস্তে আস্তে পড়ার আওয়াজ শুনতে পেলাম। এরপর অবাক হয়ে খেয়াল করলাম! গার্ডের দায়িত্বে থাকা ছেলেটি মনোযোগ সহকারে একটি মোটা গাইড বুক টাইপের একটি পাঠ্য বই পড়ছে। হঠাৎ কেন? জানি ছেলেটির প্রতি গভীর ভালোলাগা অনুভব করলাম। কারন রাজধানীতে প্রতিনিয়ত ভালো-মন্দ কতো কিছুই দেখতে পাই। মাঝে মাঝে পত্রিকার পাতায় এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষী দুঃস্থদের সাফল্যের গল্প-শুনি। অনেক সময় মনে হয়, এতো সুযোগ সুবিধার ভেতর থেকেও অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে অথচ যাদের পায়ের তলায় মাটি নেই,তারা কীভাবে সফল হয়। ছেলেটির উচ্চাভিলাস দেখে বুঝতে পারছি। আসলে সুযোগ সুবিধা সাফল্যার জন্য বড়ো কিছু নয়, বড়ো কিছু হলো বড়ো হবার আকাঙ্ক্ষা। ছেলেটির বয়স ধারণা ২০-২১ হবে। সে হয়তো ১২-১৪ হাজার বেতন পায়। আমি এমন সুন্দর দৃশ্য দেখে তার নাম, পরিচয় জানার আগ্রহী হয়েও অজ্ঞাত কারণে তাদের সাথে কথা বলতে খুব বিব্রতবোধ করি৷ খুব সন্তর্পণে আমার কাজের সাথে সাথে লুকিয়ে লুকিয়ে ছবি তুলি। মনে মনে খুশি হই। দোয়া করি। সাফল্য কামনা করি। এর চেয়ে বেশি কিছু করা হয়ে ওঠে না। ছেলেটির জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেনো তাকে ঈপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।
লেখকঃ-শাহিদুজ্জামান শাহিদ। ঘটনা ৯ জুলাই ২০২৪, মোহাম্মদপুর-ঢাকা।
Leave a Reply