স্টাফ রিপোর্টার, ৩১ মে।
মানিকগঞ্জে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিত ও হিসাব সহকারী পদের লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার দাবি করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
শুক্রবার দুপুরে লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার দাবি করে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবি করে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও প্রেসক্লাব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ৪০/৪৫জন পরীক্ষার্থী।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে,মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ প্রশাসনে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিত পদে ৩টি ও হিসাব সহকারী পদে ১টি শূণ্য পদে শুক্রবার সকাল ১০টায় শহরের খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন খান স্কুল এন্ড কলেজে লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল। তবে যাতায়াতে সমস্যার কারনে অভিযোগকারী পরীক্ষার্থীরা সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌছায়। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ঠরা তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে দেয় নি। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য অনুরোধ করলে পরীক্ষার্থীদের খারাপ আচারণ করেন কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। এরপর পরীক্ষা ছুটে যান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি) শুক্লা সরকারের কাছে। প্রশাসনের কাছে গিয়েও পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারেন নি জেলার ৪০/৪৫জন মেধাবী শিক্ষার্থী। এরপর পুনরায় পরীক্ষার দাবিতে এবং সংশ্লিষ্ঠদের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন পরীক্ষারা।
ঘিওরের পরীক্ষার্থী মো.মামুন মিয়া জানান, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ আগে পরীক্ষার কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত হই। এরপর প্রবেশপত্র দিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করতে দেই নি দায়িত্বরত ব্যক্তিরা। এরপর পরীক্ষার কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু তারা আমাদের অনুরোধ না শুনে উল্টো খারার ব্যবহার করে আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছে।
দৌলতপুরের পরীক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান জানান, প্রবেশপত্রে সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশের কথা উল্লেখ্য ছিল। কিন্তু রাস্তায় সমস্যার কারনে আমরা ১০ মিনিট দেরি করে ৯টা ৪০ মিনিটে পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌছায়।কিন্তু ১০ মিনিট দেরির কারনে আমাদের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে দেয় নি। অথচ আমাদের পরে এসে অনেক পরীক্ষার্থী আমাদের সামনে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছে।
সিংগাইরের পরীক্ষার্থী মনির হোসেন জানান, আমি চাকুরীর জন্য ঢাকায়ও পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু মানিকগঞ্জের মতো কোথাও দেখি নাই। আমরা ২০ আগে এসেও পরীক্ষা দিতে পারলাম না। অথচ আমাদের পরে এসেও অন্যরা পরীক্ষা দিয়েছে। আমাদের তো মনে হচ্ছে, প্রশাসন তাদের পছন্দের লোকজনকে চাকুরি দেওয়ার জন্য এধরনের কাজ করেছেন। প্রশাসন ও পরীক্ষার কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উপযুক্ত ব্যবস্থা এবং পুনরায় পরীক্ষার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।
তবে এবিষয়ে জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি) শুক্লা সরকার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো.তরিকুল ইসলামের মোবাইলে ফোন করেও কোন মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয় নি
Leave a Reply