স্টাফ রিপোর্টার, ৭ নভেম্বর।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ভাবির সাথে পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে বড় ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় ছোট ভাই ও স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মো.বশির আহমেদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের উত্তর কাংশা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে সিংগাইর থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন,সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের উত্তর কাংশা এলাকার রোকমান মোল্লার ছেলে ও নিহতের আপন ছোট ভাই ঝন্টু মিয়া (২৪) ও নিহতের স্ত্রী মোসাম্মৎ কাঞ্চন আক্তার মনিরা (২৩) এবং প্রতিবেশি পাশা বিশ্বাসের ছেলে মাসুদ মিয়া (২২)।
নিহত ৩০ বছরের উজ্জল মিয়া সিংগাইর উপজেলার তালেবপুরের উত্তর কাংশা এলাকার রোকমান মোল্লার ছেলে।
পুলিশ জানান,বিয়ের পর চাকুরীর সুবাদে প্রবাসে চলে যায় সিংগাইর উপজেলার তালেবপুরের উত্তর কাংশা এলাকার রোকমান মোল্লার ছেলে উজ্জল মিয়া। প্রবাসে থাকার সুযোগে ছোট ভাই ঝন্টু মিয়ার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেন স্ত্রী মোসাম্মৎ কাঞ্চন আক্তার মনিরা। এরপর গত ৩ অক্টোবর প্রবাস থেকে দেশে ফেরে আসেন উজ্জল মিয়া এবং ১২ অক্টোবর রাতে দুধের সাথে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায়ে অচেতন করে গলায় গামছা স্ত্রী কাঞ্চন আক্তার মনিরার সহযোগীতায় ছোট ভাই ঝন্টু মিয়া (২৪) ও প্রতিবেশি ছেলে মাসুদ মিয়া পেঁচিয়ে উজ্জল মিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুমের জন্য বাড়ির অদূরে ধলেশ্বরী নদীতে নিয়ে যায় এবং প্লাস্টিকের ড্রামের সাথে বেঁধে নদীর পানিতে ডুবিয়ে দেয়। এরপর মরদেহ ডুবিয়ে দেওয়ার ১৮দিন পর ধলেশ্বরী নদী থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। পরে এঘটনায় নিহতের বাবা রোকমান মোল্লা বাদি হয়ে সিংগাইর থানায় একটি মামলা করেন।
পুলিশ সুপার মো.বশির আহমেদ জানান,প্রবাস থেকে ছুটিতে আসার পর দেবর-ভাবির পরকীয়ার সম্পর্কে স্বামী উজ্জল মিয়া বাঁধা হয়ে দাড়ায়। তাদের পরকীয়ার সম্পর্ক ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় এবং নিহতের মরদেহ গুম করতে ধলেশ্বরী নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। গ্রেফতারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply