স্টাফ রিপোর্টার, ২৬ অক্টোবর।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ২০১৩ সালে হরতালের সমর্থনে বের হওয়ায় মিছিলে পুলিশের গুলিতে চারজনের নিহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মমতাজ বেগম ও দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুসহ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সিংগাইর থানায় মামলাটি করেন পুলিশের গুলিতে নিহত সিংগাইর পৌরসভার গোবিন্দল এলাকার নাজিম উদ্দিন মোল্লার বাবা মো.মজনু মিয়া।
মামলায় উল্লেখ্যযোগ্য আসামিরা হলেন,জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মাজেদ খান,সিংগাইর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শহিদ,যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম, সিংগাইর পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু নাঈম মোহাম্মদ বাশার ও সাবেক মেয়র মীর মো.শাহজাহান।
এজহারপত্রে জানা যায়,তৎকালী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দল নতুন বাজার এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন ইসলামী সমাননা দলগুলো।এসময় হরতাল সমর্থনের ব্যক্তিদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয় এবং মিছিল বন্ধ করে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু হরতাল সমর্থনের ব্যক্তিরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলো পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। তাকে কাজ না হওয়ায় এক পর্যায়ে পুলিশ হরতাল সমর্থনের উপর গুলি করেন এবং পুলিশের গুলিতে গোবিন্দল এলাকার নাজিম উদ্দিন মোল্লাসহ চারজন নিহত ও তিনজন আহত হন।
মামলার বাদি মো.মজনু মিয়া জানান, ওই ঘটনার পর থানা পুলিশ মামলা নেয়। প্রাণের ভয়ে আদালতেও মামলা করতে পারি নি। মামলা করলে আওয়ামী লীগের এমপি ও তাদের লোকজন আমাদের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসতো। তাছাড়া পুলিশের গুলিতে ছেলে মারা গেছে।পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মামলা করতে পারে নি।এখন আওয়ামী লীগ না থাকায় ছেলের হত্যার বিচারের জন্য মামলা করলাম। আশা করি আমার ছেলের হত্যার সঠিক বিচার পাবো।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জাহিদুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম ও দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলুসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১০৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত ৫০০থেকে ৬০০ জনকে আসামী করে একটি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply