সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এবং পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের সুবিধার্থে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত দুটি ফুট ওভারব্রিজ এখন হকারদের দখলে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এ ওভারব্রিজ দুটি পথচারীদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন হকার ফুট ওভারব্রিজে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই পাশে দোকান বসিয়ে মাঝখানে অল্প জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে, যা পথচারীদের চলাচলের জন্য অত্যন্ত সংকীর্ণ। এতে মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি, হকারদের দোকানের কারণে ওভারব্রিজের সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে।
হকারদের দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। স্থানীয়দের মতে, কিছু অসাধু ব্যক্তি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পথচারীদের মোবাইল, মানিব্যাগ, টাকা-পয়সা চুরি করে।
রাত হলেই ফুট ওভারব্রিজ অপরাধীদের দখলে চলে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে সেখানে ভ্রাম্যমাণ পতিতাবৃত্তি, বখাটেদের আড্ডা ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ফলে অনেক পথচারী ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে ভয় পান।
দুই বছর ধরে ফুট ওভারব্রিজে কসমেটিকস ব্যবসা করা মো. সেলিম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, স্বল্প দামে পণ্য বিক্রি করি, তাই ক্রেতাদের ভিড়ও বেশি থাকে। সরকার যদি আমাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা এখানে বসব না।”
অন্যদিকে, অফিসগামী পথচারী মো. রফিক বলেন, “ওভারব্রিজে হকারদের কারণে হাঁটা কঠিন হয়ে গেছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।”
স্থানীয়দের দাবি, ফুট ওভারব্রিজে হকার বসার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন চাঁদা তোলা হয়, যার একটি অংশ রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের কাছে যায়। প্রশাসন মাঝে মাঝে হকার উচ্ছেদ করলেও, পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় তারা আবার ফিরে আসে।
ফুট ওভারব্রিজ মূলত পথচারীদের জন্য নির্মিত হলেও, বর্তমানে তা অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। জনস্বার্থে প্রশাসনের উচিত নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ওভারব্রিজ থেকে হকারদের সরিয়ে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, ভবিষ্যতে এ সমস্যার আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
Leave a Reply