স্টাফ রিপোর্টার,৩০ নভেম্বর।
মানিকগঞ্জে প্রতারণার মাধ্যমে পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় চাকুরী প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে তিন পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মো.বশির আহমেদ ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন,মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের তালুকনগর এলাকা বাবু খানের চাকুরী প্রত্যাশী মো.শামীম খান (১৯) এবং একই মতিন খানের মো.ইসমাইল হোসেন খান (১৮) ও নাজিমুদ্দিন খানের মো.নাজমুল ইসলাম খান (১৮)।
পুলিশ জানান,গত ২২ নভেম্বর মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পরীক্ষায় পুলিশের চাকুরী দেওয়ার শর্তে প্রতারক নজরুল ইসলাম চাকুরী প্রত্যাশী মো.শামীম খান ও ইসমাই হোসেন খানকে চাকুরী দেওয়ার শর্তে ২০লাখ করে চুক্তি হয় এবং মো.শামীম খানের কাছ থেকে ২০ হাজার এবং ইসমাইল হোসে খানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন প্রতারক নজরুল ইসলাম।এরপর লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে মো.শামীম খান ও ইসমাই হোসেন খানকে পাশ করানো হয়।এছাড়া চাকুরী দেওয়ার শর্তে প্রতারক নজরুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম ইনজাল চাকুরী প্রত্যাশী নাজমুল হোসেন খানের সাথে ১৬ লাখ টাকা চুক্তি করে এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রক্সির মাধ্যমে নাজমুল হোসেন খানের লিখত পরীক্ষায় পাশ করানো হয়।
পুলিশ আরো জানান,ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে শুক্রবার সকালে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে তাদের মৌখিক (ভাইবা) পরীক্ষার অনুষ্ঠিত হয়। মৌখিক পরীক্ষার সময় জিজ্ঞাসাবাদের বোর্ড সদস্যদের কাছে অসামঞ্জস্য মনে হলে বোর্ড সদস্যরা তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং পর্যবেক্ষণ সন্দেহেজনক হওয়ায় এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত তিন প্রার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে প্রক্সি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। একই সাথে প্রতারক নজরুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম ইনজালের সাথে চুক্তির বিষয়টিও পুলিশকে জানান।
এবিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এস.এম আমান উল্লাহ জানান,এঘটনায় চাকুরী প্রত্যাশী শামীম খান, সাইফুল হোসেন খান,নাজমুল ইসলাম এবং প্রত্যারক নজরুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম ইনজালসহ অজ্ঞাত ৫জনকে আসামী করে এস.আই লিটন বাদি হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
Leave a Reply