স্টাফ রিপোর্টার, ০৪জুন।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে দিন দিন বাড়ছে অপহরণ,ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু অপরাধমুলক ঘটনার সাথে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তবে সাধারণ অপরাধীদের আইনের আওয়ায় আনা হলেও আইনের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়ছে আতংক। কিছু সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,গত শনিবার (০১ জুন) সকালে সিংগাইর উপজেলার জামসা এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমন হালদারসহ তিনজনকে অপহরণ করে প্রায় ৯৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় র্যাব-১ এর সদস্য শামীমুজ্জামানসহ ৫জনকে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পরে এঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুনম হালদার বাদি হয়ে সিংগাইর থানায় মামলা করেন। কিন্তু র্যাব সদস্য শামীমুজ্জামানকে বাদ দিয়ে মামলার বাকি ৪জন আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এবিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জিয়ারুল ইসলাম জানান,আইনগত প্রক্রিয়া শেষে র্যাব সদস্য শামীমুজ্জামানকে র্যাবের সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার বাকি ৪জন আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে চলিত বছরের গত ২৬মে সন্ধায় এক ব্যক্তির পাওয়া টাকা আদায়ের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ৫জন ব্যক্তি সিংগাইর উপজেলার বাঘুলি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অদূরের ইসমাইলের বাড়িতে যান। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদদ্যের পরিচয়ে হুমকি-ধামকি দিলে এলাকাবাসী তাদেরকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে আটককৃত ৫জনকে থানা ডেকে নিয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় পর মুচলেকা রেখে আটককৃতদের ছেড়ে দেন সিংগাইর থানার ওসি।
এছাড়া চলিত বছরের গত ১৫ জানুয়ারি সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের শান্তিপুর বাজারের একটি কম্পিউটার দোকানের সামনে থেকে রাত সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘুরাফেরা করার সময় ৫জনকে আটক করে শান্তিুপুর-বাঘুলি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ডিএমপির মোটরযান শাখার মোবারক নামের এক পুলিশ সদস্যও ছিলেন। আটকের পর পুলিশের ভুয়া পরিচয়পত্র ও হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। তবে এঘটনায় শুধুমাত্র আরিফুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেন এবং বাকি আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়াও ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর সন্ধায় পুলিশ পরিচয়ে সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের বাঘুলি উত্তরপাড়া মসজিদের সামনে থেকে উজ্জল সাহা নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে প্রায় ৯৮ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতায়ের ঘটনা ঘটে। এরপর ঘটনার দিন রাতে টাঙ্গাইল থেকে উজ্জল সাহাকে উদ্ধার করা হয়। মামলার পর এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
নামপ্রকাশে সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, র্যাব সদস্য, পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ের অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ঘটেছে। এতে করে আমরা সিংগাইরবাসাী খুব আতংকে আছি। কারন আইনশৃঙ্খলাবানীর সদস্য পরিচয় দেয় তারা। আমাদের তো ভয় আছে, ভয়ের কারনে অনেক সময় চুপচাপ থাকি। এছাড়া যতগুলো ঘটনা ঘটেছে,তাতে তো সত্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও ছিল। এখন আমরা আছি খুব বিপদে, কোন সত্য আর কোনটা ভুয়া। সেটা তো আমরা বুঝতে পারি না।
এছাড়া নামপ্রকাশে একাধিক ব্যবসায়ী জানান,সম্প্রতি কয়েকটা ঘটনার পর খুব আতংকে আছি। এভাবে চলতে থাকলে,আমাদের ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবেনা। যদি দু-একটা ঘটনা ঘটতো তাহলে একটা কথা ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর পর এই ধরনের ঘটনা ঘটে। এধরনের অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেন অনেকে। একই সাথে জড়িতের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিও করেন এবং ভবিষ্যতে যাতে এধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে দিকে পুলিশকে সতর্ক থাকার অনুরোধও করেন ব্যবসায়ী ও সিংগাইরবাসী।
এবিষয়ে সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং আগের চেয়ে পুলিশের নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে ব্যবসায়ী ও জনসাধারণকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
Leave a Reply